ঢাকা নিউজ

ইউরোপে রেকর্ড হারে বাড়ছে সিফিলিস-গনোরিয়া



ইউরোপে রেকর্ড হারে বাড়ছে সিফিলিস-গনোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে যৌনবাহিত রোগ সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থাটির মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অনীহার কারণেই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপে সমকামী পুরুষ এবং পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত পুরুষদের মধ্যে এই দুই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হলেও সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মধ্যেও সিফিলিসের হার বাড়তে থাকায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সংক্রমণের শীর্ষে থাকা স্পেনে ২০২৪ সালে ৩৭,১৬৯টি গনোরিয়া এবং ১১,৫৫৬টি সিফিলিস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইসিডিসির তথ্যমতে, গত বছর ইউরোপে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩১ জন (যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০৩ শতাংশ বেশি) এবং সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫,৫৫৭ জনে। এ ছাড়া চিকিৎসা না করা সিফিলিস হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ানো জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

ব্রেক্সিটের কারণে এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হলেও দেশটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইংল্যান্ডেই ২০২৪ সালে ৭১,৮০২ জন গনোরিয়া, ৯,৫৩৫ জন সিফিলিস এবং ১ লাখ ৬৮,৮৮৯ জন ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রথম গনোরিয়া প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ দুটি শুরুতে শনাক্ত করা কঠিন হলেও দ্রুত ধরা পড়লে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এর কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। তাই সংক্রমণ রোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত কনডম ব্যবহার এবং সামান্য উপসর্গ (যেমন: যৌনাঙ্গে ব্যথা, অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ, ঘা বা শরীরে র্যাশ) দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ইউরোপে রেকর্ড হারে বাড়ছে সিফিলিস-গনোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

ইউরোপজুড়ে যৌনবাহিত রোগ সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থাটির মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অনীহার কারণেই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপে সমকামী পুরুষ এবং পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত পুরুষদের মধ্যে এই দুই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হলেও সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মধ্যেও সিফিলিসের হার বাড়তে থাকায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সংক্রমণের শীর্ষে থাকা স্পেনে ২০২৪ সালে ৩৭,১৬৯টি গনোরিয়া এবং ১১,৫৫৬টি সিফিলিস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইসিডিসির তথ্যমতে, গত বছর ইউরোপে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩১ জন (যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০৩ শতাংশ বেশি) এবং সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫,৫৫৭ জনে। এ ছাড়া চিকিৎসা না করা সিফিলিস হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ানো জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

ব্রেক্সিটের কারণে এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হলেও দেশটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইংল্যান্ডেই ২০২৪ সালে ৭১,৮০২ জন গনোরিয়া, ৯,৫৩৫ জন সিফিলিস এবং ১ লাখ ৬৮,৮৮৯ জন ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রথম গনোরিয়া প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ দুটি শুরুতে শনাক্ত করা কঠিন হলেও দ্রুত ধরা পড়লে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এর কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। তাই সংক্রমণ রোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত কনডম ব্যবহার এবং সামান্য উপসর্গ (যেমন: যৌনাঙ্গে ব্যথা, অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ, ঘা বা শরীরে র্যাশ) দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ