ঢাকা নিউজ

অপবিত্র অবস্থায় পশু কুরবানি করলে কি আদায় হবে?



অপবিত্র অবস্থায় পশু কুরবানি করলে কি আদায় হবে?
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— অপবিত্র বা নাপাক অবস্থায় পশু জবাই করলে কুরবানি সহিহ হবে কিনা। ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, কুরবানি বা পশু জবাইয়ের মূল শর্ত হলো আল্লাহর নামে জবাই করা; জবাইকারীর পাক-পবিত্র অবস্থায় থাকা বাধ্যতামূলক বা শর্ত নয়।

শরিয়তের স্পষ্ট বিধান ও ফিকহবিদদের অভিমত

কোনো ব্যক্তি যদি অপবিত্র অবস্থায় (যেমন: গোসল ফরজ থাকা বা ওজু না থাকা) শরিয়তসম্মত উপায়ে পশু জবাই করেন এবং জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেন, তবে সেই কুরবানি সম্পূর্ণ সহিহ এবং পশুর মাংস হালাল হবে।

  • ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: নির্ভরযোগ্য এই ফিকহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, “জবাই করার সময় যদি ‘আল্লাহু আকবার’ বলা হয়, তাহলে কুরবানি হয়ে যাবে। পবিত্র থাকা শর্ত নয়। পাক ও নাপাক— উভয় অবস্থাতেই পশু জবাই করা জায়েজ।” (খণ্ড ২৬, পৃষ্ঠা ১৮২)

  • ই‘লাউস সুনান: এই গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জবাইকৃত পশু হালাল। তাকে আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেওয়া যাবে না, কারণ অপবিত্র ব্যক্তিকে কেবল কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখা হয়েছে, আল্লাহর জিকির থেকে নয়। এমনকি হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় থাকা নারীর জবাইও শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ, যদি আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়। (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২০০)

ইমাম হাসান বসরি, ইমাম শাফেয়ি, ইসহাক, আবু সাওর এবং হানাফি ফকিহগণও এ বিষয়ে একই মত পোষণ করেছেন।

কুরবানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

পশু জবাই বা কুরবানির ক্ষেত্রে যা নিশ্চিত করা জরুরি:

  • আল্লাহর নামে (বিসমিল্লাহ বলে) জবাই করা।

  • শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা।

  • ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বাদ না দেওয়া।

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা:

“তোমরা সেই প্রাণী থেকে আহার করো, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।” (সুরা আল-আন‘আম: আয়াত ১১৮)

পরিশেষ:

অপবিত্র অবস্থায় পশু জবাই করলে কুরবানি নষ্ট বা হারাম হয় না। তবে ইবাদতের আদব, সম্মান ও উত্তম নিয়মের খাতিরে পাক-পবিত্র ও ওজু অবস্থায় কুরবানি করা উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


অপবিত্র অবস্থায় পশু কুরবানি করলে কি আদায় হবে?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— অপবিত্র বা নাপাক অবস্থায় পশু জবাই করলে কুরবানি সহিহ হবে কিনা। ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, কুরবানি বা পশু জবাইয়ের মূল শর্ত হলো আল্লাহর নামে জবাই করা; জবাইকারীর পাক-পবিত্র অবস্থায় থাকা বাধ্যতামূলক বা শর্ত নয়।

শরিয়তের স্পষ্ট বিধান ও ফিকহবিদদের অভিমত

কোনো ব্যক্তি যদি অপবিত্র অবস্থায় (যেমন: গোসল ফরজ থাকা বা ওজু না থাকা) শরিয়তসম্মত উপায়ে পশু জবাই করেন এবং জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেন, তবে সেই কুরবানি সম্পূর্ণ সহিহ এবং পশুর মাংস হালাল হবে।

  • ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: নির্ভরযোগ্য এই ফিকহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, “জবাই করার সময় যদি ‘আল্লাহু আকবার’ বলা হয়, তাহলে কুরবানি হয়ে যাবে। পবিত্র থাকা শর্ত নয়। পাক ও নাপাক— উভয় অবস্থাতেই পশু জবাই করা জায়েজ।” (খণ্ড ২৬, পৃষ্ঠা ১৮২)

  • ই‘লাউস সুনান: এই গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জবাইকৃত পশু হালাল। তাকে আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেওয়া যাবে না, কারণ অপবিত্র ব্যক্তিকে কেবল কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখা হয়েছে, আল্লাহর জিকির থেকে নয়। এমনকি হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় থাকা নারীর জবাইও শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ, যদি আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়। (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২০০)

ইমাম হাসান বসরি, ইমাম শাফেয়ি, ইসহাক, আবু সাওর এবং হানাফি ফকিহগণও এ বিষয়ে একই মত পোষণ করেছেন।

কুরবানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

পশু জবাই বা কুরবানির ক্ষেত্রে যা নিশ্চিত করা জরুরি:

  • আল্লাহর নামে (বিসমিল্লাহ বলে) জবাই করা।

  • শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা।

  • ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বাদ না দেওয়া।

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা:

“তোমরা সেই প্রাণী থেকে আহার করো, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।” (সুরা আল-আন‘আম: আয়াত ১১৮)

পরিশেষ:

অপবিত্র অবস্থায় পশু জবাই করলে কুরবানি নষ্ট বা হারাম হয় না। তবে ইবাদতের আদব, সম্মান ও উত্তম নিয়মের খাতিরে পাক-পবিত্র ও ওজু অবস্থায় কুরবানি করা উত্তম।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ