প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জ্বালানি ভাণ্ডার? রহস্য উন্মোচন করলেন ভূতাত্ত্বিকরা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদ বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু কেন এই অঞ্চলেই বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল এবং ৪০ শতাংশ গ্যাস মজুদ রয়েছে? সাম্প্রতিক এক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এর চমকপ্রদ কারণ। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাখ লাখ বছরের জটিল ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াই এই অঞ্চলকে অনন্য করে তুলেছে।ভূতাত্ত্বিক কারণ ও প্লেটের সংঘর্ষ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বছর ধরে অ্যারাবিয়ান প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের মধ্যে চলা সংঘর্ষের ফলে এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিতে এক বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। এই চাপের ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল গম্বুজ আকৃতির কাঠামো এবং শিলাস্তরের ভাঁজ, যা ভূ-গর্ভে তেল ও গ্যাস আটকে রাখার জন্য আদর্শ ‘রিজার্ভার’ বা আধার হিসেবে কাজ করে।বিশাল মজুত ও সহজ উৎপাদন:
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, যার প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। সৌদি আরবের ‘ঘাওয়ার’ বিশ্বের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র এবং কাতার-ইরানের ‘সাউথ পার্স-নর্থ ডোম’ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। এখানকার তেলকূপগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা রাশিয়া বা উত্তর সাগরের তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি।শিলার গুণাগুণ ও জৈব পদার্থ:
ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের শিলাস্তরে (Source Rock) জৈব পদার্থের পরিমাণ ১ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত, যা হাইড্রোকার্বন তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগে গঠিত এই পুরু শিলাস্তরগুলো উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন করেছে।ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে উৎপাদন চলার পরেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে আরও বিশাল তেলের ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আধুনিক হরাইজন্টাল ড্রিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। এই বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সংঘাত শুরু হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ