প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তান কেন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী? সামনে এল নেপথ্যের দুই বড় কারণ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কেন পাকিস্তান এই জটিল মধ্যস্থতায় এগিয়ে এল, তার নেপথ্যে মূলত ভৌগোলিক ও কৌশলগত দুটি বড় কারণ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী আশরাফ এই উদ্যোগের পেছনে পাকিস্তানের নিজস্ব স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।প্রথম কারণ হিসেবে তিনি ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরানের সঙ্গে সীমান্ত থাকা এবং যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুদ্ধের অবসান ঘটানো ইসলামাবাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ওপর একটি পরোক্ষ চাপও কাজ করেছে।দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা সামরিক সম্পর্কের দায়বদ্ধতা ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি অন্যতম। যুদ্ধে সৌদি আরব সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সরাসরি মধ্যস্থতায় আসতে না পেরে পাকিস্তানকে এগিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে নিজেকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান সুসম্পর্ক এবং তুরস্কের ইতিবাচক ভূমিকা এই সংলাপকে সফল করতে সহায়তা করেছে।তবে এই মধ্যস্থতা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ ইরানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি করা বা শক্তি প্রয়োগ করা দেশটির জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের শিয়া জনগোষ্ঠী, বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারিত্বের কথা মাথায় রেখেই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক হওয়ায় পাকিস্তান দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ছিল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ