প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করতে ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
দেশের কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের মধ্যকার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাব এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে দেশজুড়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে শহরের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে আর গ্রামের কৃষকেরা সেচের জন্য বিদ্যুৎ পাবে না—এমন বৈষম্য জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার শহরেও পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। জনগণের এই সাময়িক কষ্টের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। রাতারাতি অবকাঠামো বাড়ানো সম্ভব না হলেও সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় এই সমস্যার সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া মেইনটেন্যান্সের কারণে দুটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।তবে আশার কথা শুনিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের যে লোডশেডিং হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ