প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ সংকটে: খরচ ৩৫ বিলিয়ন ডলার
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৩৮ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে এই যুদ্ধে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্যাসম-ইআর (JASSM-ER) নামক দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ছিল নজিরবিহীন। ১ হাজার ১০০টি জ্যাসম-ইআর ব্যবহারের পর বর্তমানে তাদের মজুদে আর মাত্র ১ হাজার ৫০০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং এটিএসিএমএস (ATACMS) ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার মার্কিন বাহিনীকে পুনরায় মজুদ গড়ার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে এশিয়া ও ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ও থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা সিস্টেম সরিয়ে নেওয়ায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন শক্তি কিছুটা শিথিল হয়েছে। সিনেট সশস্ত্র বাহিনী কমিটির মতে, বর্তমান উৎপাদন গতিতে এই শূন্যস্থান পূরণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে।তবে হোয়াইট হাউস এই অস্ত্র সংকটের খবরকে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং তাদের পর্যাপ্ত গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে। কিন্তু সামরিক কমান্ডার ও স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ