প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জে বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০
নিউজ ডেস্ক ||
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ও কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর এবং জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইখালী নদী ও পাঠামারা খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখার ফলে উজান এলাকার শত শত একর বোরো জমির কাঁচা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কাশীপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের কৃষকরা বারবার বাঁধ কেটে দেওয়ার অনুরোধ করলেও শান্তিপুর ও হটামারা গ্রামের লোকজন তাতে কর্ণপাত করেনি। আজ দুপুরে কাশীপুর গ্রামের কৃষকরা নিজেরাই বাঁধ কাটতে গেলে শান্তিপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়।সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শান্তিপুর গ্রামের মাসুদ মিয়া, আবু হানিফ, মো. রাফাত ও মো. সামিরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেটে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কাশীপুর পক্ষের জসিম উদ্দিন, আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।শান্তিপুর ও হটামারা গ্রামবাসীর দাবি, এই বাঁধ কেটে দিলে তাদের নিচু এলাকার জমি তলিয়ে যাবে। তবে ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, এই অবৈধ বাঁধের কারণে হাজার হাজার কৃষকের ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকুন নুর জানিয়েছেন, প্রকৃতিগতভাবে উজানের পানি প্রবাহে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুতই অবৈধ বাঁধ দুটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ