প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুনের শিকার: ঘাতক রুমমেটের অন্ধকার অতীত নিয়ে চাঞ্চল্য
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয় এবং শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে (২৬) গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।গ্রেফতারকৃত হিশামের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আদালত সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হিশাম একজন মার্কিন নাগরিক এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়লেও বর্তমানে তিনি ছাত্র ছিলেন না। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একাধিকবার শারীরিক আঘাত এবং চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর সহিংস আচরণে ভীত হয়ে পরিবারের এক সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছিলেন।লিমনের লাশ উদ্ধারের পর হিশামকে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হিশাম তাঁর পরিবারের বাড়িতে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সোয়াট টিমের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, আলামত নষ্ট করা, মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানো এবং পারিবারিক সহিংসতাসহ একাধিক অভিযোগে হিশামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ থাকা নিয়ে এক বড় রহস্য তৈরি হয়েছিল। তবে শনিবার সকালে বৃষ্টির ভাই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে পুলিশ এবং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ