প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
জলাবদ্ধতায় লাকসামে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: দিশেহারা চাষীরা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ নেমে আসা এই দুর্যোগে খেতের আধাপাকা ও পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় চরম কৃষি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে বুকফাটা আর্তনাদ আর দুশ্চিন্তা নিয়ে যতটুকু সম্ভব ধান কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ পর ধান কাটার কথা থাকলেও বৃষ্টির তোড়ে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে নেমেছেন। অনেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নৌকা বা কলাগাছের ভেলায় করে ভেজা ধান উদ্ধার করে উঁচু রাস্তায় রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ঋণ করে বীজ ও সার কিনে দিনরাত পরিশ্রমের পর ফসল কাটার আগমুহূর্তে এমন দুর্যোগে তারা দিশেহারা। হাজার হাজার টাকায় জমি বর্গা নেওয়া চাষীদের এখন সারা বছর সংসার চালানো এবং ঋণের টাকা শোধ করা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।দুর্যোগের পাশাপাশি তীব্র শ্রমিকসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক মণ ধান দিয়েও এখন একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া জমিতে পানি জমে থাকায় আধুনিক কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন ব্যবহার করাও সম্ভব হচ্ছে না। ধান কাটার আগেই তা পানির নিচে চলে যাওয়ায় গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই এলাকায় ৮ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা আল আমিনের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে অন্তত ১৪০ হেক্টর জমির ধান হেলে পড়েছে এবং ১৪ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কৃষি বিভাগ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ