প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ যুদ্ধকৌশল
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী যুদ্ধ থামলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখনো কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইসরাইলের অনুসৃত ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সীমিত ও নিয়মিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সবসময় চাপে রাখা এবং তাদের শক্তি বাড়তে না দেওয়া।লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক মাইকেল কার সতর্ক করেছেন যে, এমন কৌশল নিলে ইরান পাল্টা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের মতো দেশগুলোতে হামলা চালাতে পারে। এমনকি মার্কিন জাহাজে ড্রোন হামলার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কারণে এই সামরিক কৌশলটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে কোনো ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিতে তারা তাড়াহুড়ো করবে না। অন্যদিকে কাতার এই পরিস্থিতিকে ‘স্থবির সংঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় পুনরায় বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।অর্থনৈতিকভাবেও এই সংঘাত উভয় পক্ষের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের হিসাব মতে, যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা চাপের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ