প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
পাকিস্তানের তেলের মজুদ শূন্য, ভারতের সক্ষমতা নিয়ে পাক মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছানোয় চরম সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক স্বীকার করেছেন যে, ভারতের মতো বিশাল কৌশলগত মজুদ না থাকায় পাকিস্তান এই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও ভারত তাদের মজুদ ব্যবহার করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।পাক মন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভারতের কাছে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত তেলের মজুদ রয়েছে, যা তাদের সংকটের সময় আর্থিক সুরক্ষা দেয়। বিপরীতে পাকিস্তানে কোনো কৌশলগত মজুদ নেই; দেশটিতে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের অপরিশোধিত তেল এবং বড়জোর ২০-২১ দিনের পরিশোধিত পণ্যের বাণিজ্যিক মজুদ রয়েছে। ভারত আইএমএফের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে কর কমিয়ে নাগরিকদের স্বস্তি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে, যা পাকিস্তানের নেই।তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেলের দাম সমন্বয় করতে পাকিস্তান সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ডিজেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ডিজেলে লেভি শূন্যে নামিয়ে এনে পুরো বোঝা পেট্রোলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পেট্রোলের দাম লিটারে ৮০ রুপি কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা সরকারি লেভি থেকে সমন্বয় করা হবে।অন্যদিকে ভারত তাদের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি প্রায় ১০ রুপি কমিয়ে দেশটি জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাক মন্ত্রী মালিক আক্ষেপ করে বলেন, ভারতের কাছে ৬০ থেকে ৭০ দিনের জরুরি তেলের মজুদ থাকলেও পাকিস্তান সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ