প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কে এগিয়ে
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন সবার নজর ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিকে। তবে ফল প্রকাশের আগেই বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল নিয়ে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভোট শতাংশের হিসেবে বিজেপি ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ এবং তৃণমূল ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে আভাস মিলছে, যা বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও বাস্তব পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চাকরি কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আরজিকর হাসপাতালের ঘটনা সচেতন ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সরকারের বাস্তবায়িত লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী ও কন্যাশ্রীর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা শাসক দলের জন্য বড় শক্তির জায়গা।এবারের নির্বাচনে ৯১ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। এই পরিস্থিতির কারণেই নির্বাচনি ইতিহাসে রেকর্ড প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে। নাগরিকত্ব, পরিচয় এবং নিরাপত্তার ইস্যুগুলো ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।সবদিক বিবেচনা করলে এবারের নির্বাচনে কোনো একতরফা ফলাফলের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। লড়াই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে জয়ের ব্যবধান অনেক কমে আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও বিরোধী শক্তি হিসেবে বিজেপি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও সূক্ষ্ম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ