প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে আমেরিকান সেনার সংখ্যা এখন ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জার্মানিতে ৩৬ হাজার ৪৩৬ জন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন, যা জাপানের পর বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা সর্বোচ্চ মার্কিন সেনা উপস্থিতি। তবে এই ৫ হাজার সেনাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে নাকি অন্য কোথাও পাঠানো হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট করেনি।ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের সময় পশ্চিম জার্মানিতে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটিতে অতিরিক্ত ৭ হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে জার্মানি একটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেও বঞ্চিত হতে যাচ্ছে, কারণ চলতি বছরের শেষে নির্ধারিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাটিও বাতিল করা হয়েছে।জার্মানি ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ইতালিতে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজারেরও বেশি সেনা রয়েছে। স্পেনে প্রায় ৪ হাজার সেনা থাকলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। কারণ, স্পেন সরকার ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তাদের দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কেবল স্থানীয় নিরাপত্তাই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলাতেও বড় ভূমিকা পালন করে। জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটি, যুক্তরাজ্যের আরএএফ লাকেনহিথ, ইতালির এভিয়ানো এবং পর্তুগালের লাজেস ফিল্ড এক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়া জার্মানির স্টুটগার্টে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দফতর এবং ইতালির নেপলস ও সিগোনেলায় দুটি বড় নৌঘাঁটি রয়েছে।ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও নৌ ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই ঘাঁটিগুলো ইউরোপ জুড়ে মার্কিন সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ