প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ন্যাটো ও জার্মানির প্রতিক্রিয়া
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।জার্মানির অবস্থান:
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই সিদ্ধান্তকে 'অনুমিত' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইউরোপ এবং জার্মানিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের স্বার্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউরোপকে এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে এবং জার্মানি তার মহাদেশীয় মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া:
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, জোটটি ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি এক্সে (X) লিখেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের দেশগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং যৌথ নিরাপত্তার দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই প্রবণতাকে জোটের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট:
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে:কৌশলগত বিরোধ: ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে জার্মানি প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না, যদিও জার্মানি ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.১ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব: জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র 'অপদস্থ' হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেরৎসের সমালোচনা করেন এবং দ্রুতই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।আঞ্চলিক ফোকাস: ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ থেকে মনোযোগ সরিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াতে চায়।বর্তমান পরিস্থিতি:
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬,০০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। তবে ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোটকে সামরিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ