প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
তৃণমূলের ভরাডুবি: নেপথ্যে কি অভিষেকের উত্থান ও নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব?
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর দলের অন্দরে ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে মমতার হাত ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে দলে তার একাধিপত্যই এই পতনের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে দলের শক্তিশালী ‘মিডল অর্ডার’ বা প্রবীণ নেতাদের গুরুত্বহীন হয়ে পড়া সংগঠনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে।তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মুকুল রায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিমদের মতো নেতারা যে মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন, নবীনের আবাহনে তাতে ধস নামে। অভিষেক দলে ‘কর্পোরেট’ সংস্কৃতি ও ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির মতো নতুন চিন্তাধারা প্রবর্তন করতে চাইলে প্রবীণদের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে অনেক অভিজ্ঞ নেতা হয় দল ছেড়েছেন, না হয় কোণঠাসা হয়ে গুরুত্ব হারিয়েছেন।সংগঠনের নাড়ি-নক্ষত্র জানা মুকুল রায়ের দলত্যাগ এবং পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। শুভেন্দুর মতো নেতারা যখন পর্যবেক্ষক পদ হারানোর ক্ষোভে দল ছাড়েন, তখন অভিষেক ও পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের ওপর অতি-নির্ভরতা দলের পুরনো কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। প্রবীণ নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, রাজনীতি এখন আর মাঠ-ঘাটের লড়াই নয়, বরং ‘বাচ্চা ছেলেদের’ ধরিয়ে দেওয়া কাগজ পড়ে সাংবাদিক বৈঠক করার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা সেই শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলযাত্রা, অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি এবং শোভন-মদনদের প্রাসঙ্গিকতা হারানোর ফলে দলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, অভিষেকের নেতৃত্ব তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্প সত্ত্বেও ভঙ্গুর সংগঠন নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া তৃণমূলের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ