প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: গণতন্ত্রের অবক্ষয় ও ভোটাধিকার হরণ বিতর্ক
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল জয় ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্য দখল করেছে বিজেপি, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮০-তে। তবে এই ফলাফল নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।নির্বাচনের আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) কর্তৃক পরিচালিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৯০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম, দরিদ্র এবং অভিবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে প্রায় ২৭ লাখ নাম বাদ পড়ে এবং কয়েক লাখ আপিল অমীমাংসিত থেকে যায়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজেপি যেসব আসনে জিতেছে, সেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।দিল্লিভিত্তিক লেখক ও সাংবাদিক নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, ১৯৫১-৫২ সালের পর এই প্রথম ভারতে ভোটাধিকার প্রমাণের দায়ভার রাষ্ট্রের বদলে নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এআই-চালিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে নামের বানানের অসংগতি খুঁজে বের করে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর নাম তালিকায় ‘ফ্ল্যাগ’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস একে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা হারানো এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছে।বিজেপির এই বিজয়কে হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা এবং ‘ইলেকটোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ফসল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ এবং আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক দলগুলোকে দুর্বল করে মোদির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি বিলুপ্ত করে একটি কর্তৃত্ববাদী ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ