প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
নিঃশব্দ আত্মত্যাগে সন্তান মানুষ করার কারিগর মা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের গ্রাম টুপকারচরে বড় হওয়া লেখক মোশারফ হোসাইন তার মায়ের জীবন ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেছেন। বাবা কৃষক হলেও সাত ভাই ও চার বোনের বিশাল এই যৌথ পরিবারের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন মা। প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া তার বিরামহীন কাজ চলত গভীর রাত পর্যন্ত। অভাবের দিনে নিজের খাবারের থালায় শুধু মাছের কাঁটা রেখে সন্তানদের ভালো খাবার তুলে দেওয়া কিংবা ছেঁড়া শাড়ি বদলে নতুন শাড়ি না কিনে সন্তানদের পরীক্ষার ফি জোগাড় করার মধ্য দিয়েই তিনি সংসার আগলে রাখতেন।লেখকের মা নিজে খুব বেশি পড়াশোনা না করলেও শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতেন এবং সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ছিলেন অনড়। ৯৬-এর বন্যার সময় চাল-ডালের চেয়ে সন্তানদের বই-খাতা পলিথিনে মুড়িয়ে রক্ষা করাই ছিল তার কাছে অগ্রাধিকার। তার অনুপ্রেরণা ও ত্যাগেই আজ তার সন্তানেরা হাফেজ, মাওলানা, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।মায়ের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিতে লেখক দেখিয়েছেন, মা কেবল সন্তান জন্ম দেননি, বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক মানুষ তৈরি করেছেন। ছয় মাস আগে মা মারা গেলেও টুপকারচর গ্রামের বাতাসে, মাটির গন্ধে আর নিজের জমানো টাকায় কেনা সেই যত্ন করে রাখা পুরনো শাড়িটির ভাঁজে মা আজও বেঁচে আছেন লেখকের হৃদয়ে। মায়ের সেই চিরন্তন হাসি আর ‘তোরা ভালো থাকলেই আমি ভালো’—এই দর্শনেই লুকিয়ে ছিল এক নিঃস্বার্থ জীবনের সার্থকতা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ