প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
রেডিওথেরাপি নিয়ে ভয় নয়, প্রয়োজন সঠিক ধারণা ও সচেতনতা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হলেও বাংলাদেশে এটি নিয়ে অনেক ভয় ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আরমান রেজা চৌধুরী জানান, রেডিওথেরাপি রোগ নিয়ন্ত্রণ, নিরাময় এবং ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক রেডিওথেরাপি এখন অনেক বেশি নিখুঁত ও নিরাপদ, তাই একে ঘিরে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।রেডিওথেরাপি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে—যেমন শরীর পুড়ে যাওয়া, সব চুল পড়ে যাওয়া বা এটি অত্যন্ত কষ্টকর চিকিৎসা। চিকিৎসকদের মতে, এগুলোর বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। রেডিওথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও সেগুলো মূলত সাময়িক ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, ত্বকের সামান্য পরিবর্তন (লালচে বা কালচে ভাব), এবং যে অংশে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে সামান্য বমিভাব বা খাওয়ার সমস্যা।সমাজে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার, যেমন—রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীর সাথে মেলামেশা করা যায় না বা রেডিয়েশন দিলে পুরো শরীর তেজস্ক্রিয় হয়ে যায়—এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডা. আরমান রেজা চৌধুরী উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত কাউন্সেলিংয়ের অভাব এবং অন্যের মুখে শোনা ভুল তথ্যের কারণে রোগীরা চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, যা রোগকে আরও জটিল করে তোলে।পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ধূমপান বর্জন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসা চলাকালীন খুব বেশি জ্বর, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া বা অসহনীয় ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের মতে, কুসংস্কার বা গুজবে কান না দিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখাই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান উপায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ