প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
তরুণদের তামাকের ছোবল থেকে বাঁচাতে কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন নারী মৈত্রীর আলোচনা সভার বক্তারা। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফার লোভে তরুণদের আসক্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। সভায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের স্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনে নামিয়ে আনা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোকে লাভবান রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন এবং এ বিষয়ে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে তামাক পণ্যের খুচরা মূল্য কম হওয়ায় উচ্চ করহারও তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, প্রস্তাবিত উপায়ে করারোপ করলে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় আগের বছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৮৫ হাজার কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেটের দাম সেভাবে না বাড়ায় তা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালে রয়ে গেছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যকে তরুণদের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে কার্যকর করারোপ এখন সময়ের দাবি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ