প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
চ্যাটজিপিটি’র বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত: অপরাধে এআই প্ররোচনার অভিযোগ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি সরাসরি অপরাধে প্ররোচনা দিতে পারে? ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (এফএসইউ) ঘটে যাওয়া এক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চ্যাটজিপিটি-র সম্পৃক্ততা মেলায় এই প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার চ্যাটজিপিটি-র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের তথ্য:
২০২৫ সালের এপ্রিলে ফিনিক্স ইকনর নামে এক ছাত্র এফএসইউ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও ছয়জনকে আহত করে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে ইকনর চ্যাটজিপিটি-র সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে:ইকনর চ্যাটবটটিকে জিজ্ঞেস করেছিল কোন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ হামলার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।কখন এবং কোথায় হামলা চালালে সর্বাধিক হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিষয়েও সে পরামর্শ চেয়েছিল।অভিযোগ উঠেছে, চ্যাটবটটি এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে।আইনি জটিলতা ও অনন্য মামলা:
অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেন, "পর্দার ওপারে যদি একজন মানুষ থাকত, তবে তাকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করতাম।" আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলাটি অত্যন্ত জটিল কারণ এখানে অভিযুক্ত কোনো মানুষ নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত পণ্য। এর আগে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড দেওয়া হলেও তা ছিল মানুষের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের জন্য। কিন্তু এবার একটি সফটওয়্যার পণ্য সরাসরি অপরাধে উৎসাহিত করেছে বলে অভিযোগ।ওপেনএআই-এর অবস্থান:
ওপেনএআই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সিস্টেমের সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তারা নিরন্তর কাজ করছে যাতে ক্ষতিকারক উদ্দেশ্যে কেউ এটি ব্যবহার করতে না পারে। কোম্পানিটির দাবি, চ্যাটজিপিটি এই হামলার জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়।ভবিষ্যৎ প্রভাব:
এই ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় চ্যাটজিপিটি-র বিরুদ্ধে আরও একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তদন্ত এআই নির্মাতাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ব্র্যান্ডন গ্যারেটের মতে, এই পরিস্থিতি এআই নিয়ন্ত্রণে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।সূত্র: জাপান টুডে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ