প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
জয়পুরহাট-১ এর এমপি কোণঠাসা: সব আয়োজনে ২ আসনের এমপি তথা প্রতিমন্ত্রী ও পরাজিত প্রার্থীর আধিপত্য!
মোঃ সাদ আব্দুল্লাহ, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি ||
জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী সীমানার ভেতরেই চরম অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া এই প্রতিনিধিকে পাশ কাটিয়ে একের পর এক সরকারি, প্রশাসনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর পরিবর্তে এসব অনুষ্ঠানে অতিথি করা হচ্ছে জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি তথা প্রতিমন্ত্রীকে। একই সাথে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলীয় কোটায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এক ব্যক্তি সব জায়গায় প্রধান বা বিশেষ অতিথি হিসেবে দাপট দেখাচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত এমপিকে এভাবে কোণঠাসা করে রাখায় সদর-পাঁচবিবির সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, সুকৌশলে জয়পুরহাট-১ আসনের এমপিকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, জেলা প্রশাসন ও জয়পুরহাট টিটিসি (TTC)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনার, এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ সমাপনী অনুষ্ঠান। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনের দাওয়াত কার্ড থেকেও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে অবজ্ঞা করা হয়েছে।এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচেতন নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রীয় নাকি দলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ? নাকি এটি সদর-পাঁচবিবি উপজেলার লক্ষাধিক ভোটারকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ প্রদর্শনের শামিল? জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে একজন পরাজিত প্রার্থী এবং অন্য আসনের প্রতিমন্ত্রীকে পদে পদে হাইলাইট করার এই রাজনীতিকে অনেকেই সুস্থ ধারার চর্চা হিসেবে মানতে পারছেন না।যেখানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিভেদ ভুলে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ গঠনের কথা বলছেন, সেখানে জেলা পর্যায়ে ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের নাকের ডগায় ঘটলেও তারা দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভোটার আক্ষেপ করে বলেন, "বিগত সরকারের আমলেও আমরা দেখেছি নিজ দলীয় এমপি হয়েও জয়পুরহাট-১ আসনের এমপিকে বাদ দিয়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হতো। যদি এখনো নির্বাচিত এমপিকে বাদ দিয়ে ২ আসনের এমপি আর পরাজিত প্রার্থীকে নিয়ে সব চলে, তবে পার্থক্যটা কোথায় থাকলো?"স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক হাইকমান্ড দ্রুত এ বিষয়ে সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক বিভেদ ও অসন্তোষ আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ