প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
জিসিসির সিদ্ধান্তে হতাশ ট্রাম্প, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান চায় আরব দেশগুলো
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরানে চলমান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে পাল্টা হামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে উল্টো কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠক শেষে জিসিসিভুক্ত দেশগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। জিসিসির এই অবস্থানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব চরম হতাশ হয়েছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করেছিলেন আরব দেশগুলো ইরানের হামলার জবাব দেবে।জিসিসি মহাসচিব আল-বুদাইওয়ি বৈঠক শেষে জানান, এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে তারা গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তেহরান হামলা বন্ধ করবে—এই আশায় তারা কখনোই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জিসিসির লক্ষ্য ইরানকে ধ্বংস করা নয়, বরং দেশটির সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। একই সাথে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।তবে বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রধান তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। জিসিসি মহাসচিব এই হামলাকে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর একটি ‘নিষ্ঠুর আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করা এখন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। তিনি ইরানকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে জিসিসি দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানান।বিপাকে পড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইতিপূর্বে দাবি করেছিল যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে আগ্রহী। কিন্তু রিয়াদের এই সিদ্ধান্তে এটি স্পষ্ট যে, আরব দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান খুঁজছে। জিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে তার প্রভাব এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ