প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি, স্বামীকে হত্যার পর হাড়-মাংস আলাদা করা সেই স্ত্রী
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরো করার অভিযোগে স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। ১২ মে রাতে চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনের এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার জানান, ৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং এটি ছিল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দিলে গত ১২ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিয়াকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন আসমা। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে পরবর্তীতে চাকু দিয়ে দেহটি ৬ টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করে তিনদিন ড্রামে ভরে রাখেন।হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর গত শুক্রবার রাতে আসমা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে লাশের খণ্ডিত অংশগুলো মুলফৎগঞ্জ এলাকার পদ্মা নদীর তীর এবং শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায় বস্তায় ভরে ফেলে আসেন। পরে অবশিষ্ট মাংসগুলো শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকার আগের ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান।সেখানে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তারা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসমাকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর ও বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতের মাথা, হাড় ও খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার করে।গ্রেফতারের পর আসমা আক্তার অকপটে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি জীবনে কোনোদিন একটি পিঁপড়াও মারেননি, কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল তা নিজে বুঝতে পারেননি। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ