প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
৫ বছরের মধ্যে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে চীন
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকটিকে কূটনৈতিক সাফল্য বলা হলেও, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্পের নিজস্ব উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে তাইওয়ান এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা গোপনে আশঙ্কা করছেন যে এই বৈঠকের প্রভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ানের ওপর চীনের আগ্রাসন বা বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ ঘটতে পারে। ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানান, শি জিনপিং ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তারা আমেরিকার সমান সমান এবং তাইওয়ান তাদেরই; আর এই সফরের পর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুটি সামনে চলে আসার আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে।বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ওই উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিকভাবে তারা এর জন্য একেবারেই প্রস্তুত নন এবং সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সরবরাহের চেইন স্বনির্ভর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। এদিকে চীন সফর শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে একটি পেন্ডিং অস্ত্র বিক্রির চুক্তিকে বেইজিংয়ের সাথে দরকষাকষির ‘হাতিয়ার’ বা ‘নেগোশিয়েটিং চিপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাইওয়ানের জন্য আটকে থাকা ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি এটি স্থগিত রেখেছেন এবং এটি মূলত চীনের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে অনুমোদিত ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজের প্রতিক্রিয়ায় চীন তাইওয়ানের চারপাশে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালিয়েছিল এবং এই শীর্ষ বৈঠকের সময় তাইওয়ানকে ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছে বেইজিং।এছাড়াও, ট্রাম্প তাইওয়ানের চিপ নির্মাতাদের আমেরিকায় চলে আসার আহ্বান জানিয়ে তাইপেইকে চমকে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের এসব মন্তব্যের জবাবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও শনিবার (১৬ মে) জানান, রিপাবলিক অব চায়না একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ এবং এটি স্বতঃসিদ্ধ, ফলে বেইজিংয়ের দাবিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তবে তাইওয়ান এখনো ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ এবং মার্কিন আইন অনুযায়ীই তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়া আমেরিকার দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।মূলত ফক্স নিউজকে দেওয়া ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের জবাবেই এই প্রতিক্রিয়া জানায় তাইপেই, যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে নন এবং একটি যুদ্ধের জন্য ৯,৫০০ মাইল পাড়ি দিতে চান না। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও তারা এর স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতাও করে না; তবে এই সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যটিই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ