প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
জাবিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকির তীব্র নিন্দা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রতি অশালীন আচরণ, হুমকি এবং কাজে বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার পর ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মুক্তচিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে প্রক্টরকে আক্রমণ করতে উদ্যত হওয়ার ঘটনা ভিডিও করার সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নূরে তামিম স্রোতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এই ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অর্থনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজিহা নাওয়ার গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অশ্রাব্য শব্দচয়ন করে ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হুমকিসহ নানান উষ্কানিমূলক বক্তব্য দেন এবং এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী পেছন থেকে উস্কানি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জাবি প্রতিনিধি মাহ্ আলম এবং সাংবাদিক মুশফিক রিজওয়ান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রক্টর অফিসের সামনে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনকালেই আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এমন অবমাননাকর গালিগালাজ করেন, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর ফলে ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।দৈনিক যুগান্তরের জাবি প্রতিনিধি ও জাবি প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রক্টর অফিসে বহিরাগত আটকের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে উপস্থিত হন এবং একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের দিকে মারমুখীভাবে তেড়ে আসলে প্রক্টর ভিসির গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন। এর পরপরই সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে, যা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত হতাশাজনক।এদিকে, একই দিন দুপুরে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার আরেকটি পৃথক ঘটনা ঘটে। এনটিভি অনলাইনের জাবি প্রতিনিধি আকিব সুলতান অর্নব অভিযোগ করেন, জরুরি নিউজের কাজে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত পরিচয় দিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে প্রবেশ করার পরও তাকে সেখান থেকে জোরপূর্বক বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতায় স্পষ্ট অসহযোগিতা।সন্ধ্যার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উপস্থিত সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্য আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ