প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বিয়েতে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রায় এক কোটি রুপি খরচ করেছিল পরিবার, কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৭ মাস পরেই লাশ হয়ে ফিরতে হলো ২৫ বছর বয়সি তরুণী দীপিকাকে। ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠ গ্রেটার নয়ডায় শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত যৌতুক না পেয়ে দীপিকাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।রোববার (১৭ মে) গভীর রাতে গ্রেটার নয়ডার ইকোটেক-৩ থানা এলাকার জলপুরায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম दीपिका নগর এবং তার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য দীপিকার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।নয়ডার একটি মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুভেজা চোখে দীপিকার বাবা সঞ্জয় নগর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওরা একটি ফরচুনার গাড়ি আর নগদ ৫১ লাখ রুপি চেয়েছিল। বিয়ের মাত্র তিন-চার মাস পর থেকেই মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু হলেও মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ভেবে তারা আগে পুলিশের দ্বারস্থ হননি।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী নির্যাতন ও হত্যা মামলার দণ্ডবিধিতে নিহতের স্বামী ঋত্বিক তানওয়ার ও শ্বশুর মনোজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেন্ট্রাল নয়ডার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানান, তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।দীপিকার বাবার দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়েতে নগদ ১১ লাখ রুপি, ৫০ লাখ রুপির স্বর্ণ, আসবাবপত্র এবং একটি স্করপিও গাড়ি যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও একটি ফরচুনার বিলাসবহুল গাড়ি এবং নগদ ৫১ লাখ রুপির জন্য চাপ দিচ্ছিল।অভিযোগে বলা হয়, গত রোববার দীপিকা কাঁদতে কাঁদতে তার বাবাকে ফোন করে জানান যে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করছে। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় দীপিকার বাবা আত্মীয়দের নিয়ে জামাতার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা চলে আসার কিছু সময় পরেই দীপিকার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর পান।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ