প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যা ঘটে
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়মিত ডিম খাওয়ার সাথে আলঝেইমার্স বা স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য ইতিবাচক যোগসূত্র রয়েছে।গবেষণার বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে পাঁচ বা তার বেশি দিন ডিম খান, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। অন্যদিকে, যারা সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন ডিম খান, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমে ২০ শতাংশ। এমনকি যারা মাঝেমধ্যে বা অনিয়মিতভাবে ডিম খান, যারা একেবারেই ডিম খান না তাদের তুলনায় তাদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি ১৭ শতাংশ কম।গবেষকেরা প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এই দীর্ঘ গবেষণা চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৮ জনের শরীরে আলঝেইমার্স রোগটি শনাক্ত হয়, যা ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ। গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, যারা খাদ্যতালিকা থেকে ডিম সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছিলেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল সবচেয়ে বেশি।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের মধ্যে কোলিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, আয়োডিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো এমন কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখতে দারুণ কার্যকর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই পুষ্টি উপাদানগুলো মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং সামগ্রিক মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তবে গবেষকেরা বিশেষ জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা হওয়ায় এর মাধ্যমে সরাসরি এটি প্রমাণ করা যায় না যে ডিম খেলেই আলঝেইমার্স রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব, বরং এর মাধ্যমে কেবল একটি ইতিবাচক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। এর আগে ডিম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে করা বিভিন্ন গবেষণায় মিশ্র ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল বিধায় পুষ্টিবিদেরা সবসময় পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ডিম অত্যন্ত নিরাপদ ও উপকারী একটি খাবার এবং এর পুষ্টিগুণ মূলত ডিমটি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং ডিমের সঙ্গে অন্য কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটির ওপরেই নির্ভর করে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ