প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
জ্বালানির দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেনিয়াজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত ৪
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। দেশজুড়ে চলমান গণপরিবহন ধর্মঘটের সমর্থনে সোমবার (১৮ মে) হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন।বিক্ষোভের তীব্রতা ও জনজীবন অচল
সোমবার রাজধানী নাইরোবির কেন্দ্রমুখী রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা ছিল এবং পুরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জ্বলন্ত টায়ার ফেলে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে অবরোধ তৈরি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেসরকারি বাস মালিকদের শুরু করা এই আন্দোলনের প্রভাব রাজধানী ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান শহর মোমবাসাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে ব্যাপকভাবে পড়ে। সাধারণ মানুষ যাতায়াতের জন্য বাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চাকুরিজীবী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি
পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর মূল দাবি হচ্ছে সম্প্রতি বর্ধিত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কেনিয়ায় খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ২৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যার ঠিক আগের মাসেও দাম বেড়েছিল ২৪.২ শতাংশ। পর পর দুইবার বিপুল পরিমাণে দাম বাড়ার ফলে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে।কেনিয়া সরকারের অবস্থান
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে কেনিয়ার জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মতো কেনিয়াও বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি।তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুরকোমেন দাবি করেছেন যে দেশের বেশিরভাগ এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অপরাধী চক্র’ ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলার উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের ফায়দা লুটতে সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ