প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাংকার চলাচল বৃদ্ধিতে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার (২০ মে) অন্তত দুটি চীনা তেলবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করেছে, যা শিপিং ডেটায় দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত শিগগিরই প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনার একটি বড় ইঙ্গিত।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছেন যে যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করার কথা উল্লেখ করে জানান যে তারা এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। ইরানের পক্ষ থেকে নতুন শান্তি প্রস্তাব আসার পর ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করার দাবি করে জানান, তিনি হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন। তবে কোনো সমঝোতা না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন হামলা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।দীর্ঘ সংঘাতের কারণে শত শত তেলবাহী জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বের হতে না পারায় এই জ্বালানি রুটটি সচল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি এলএসইজি ও ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, চীনের দুটি সুপারট্যাংকার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহন করে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। শান্তির এমন ইতিবাচক বার্তার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে, যদিও পরে তা আবার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক সময় ইরানি আলোচনাকারীদের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে না। অন্যদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝতে পেরেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালালে তাদের কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের কাছাকাছি এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবে তাদের আগের অবস্থান থেকে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনও সম্ভব হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ