প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
হজের কারণে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিত
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র হজ পালনের সময়ে যুদ্ধ শুরু করলে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়বে—এমন তীব্র সতর্কবার্তার পর চলতি সপ্তাহে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁস করেছে।উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল যে হজের মতো পবিত্র সময়ে ইরানের ওপর হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হবে এবং সেখানে আসা লাখ লাখ হাজি মাঝপথে আটকে পড়বেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে হজের পবিত্র দিনগুলোতে হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে ওয়াশিংটনের গ্রহণযোগ্যতা চিরতরে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে এবং ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি হবে।এর আগে পবিত্র রমজান মাসেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল, তবে হজের সময়ে হামলা চালালে তা সৌদি আরবের জন্য এক বিশাল ব্যবস্থাপনার সংকট তৈরি করবে। শুধু সৌদি আরবই নয়, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় বিমান চলাচলের প্রধান হাব এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সব ফ্লাইটও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। চলতি বছরের হজ আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এবং এরই মধ্যে লাখ লাখ হজযাত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে হজ শেষ হওয়ার পরপরই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে। ইরানিদের অসতর্ক রাখতে এবং এক ধরণের মিথ্যা সুরক্ষার আভাস দিতে অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র এমন রণকৌশল ব্যবহার করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প নিজেই তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছিলেন যে কাতারের আমির, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার রাতের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছিল। তেহরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আর কোনো আঘাত করা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের সব অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণেই সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যেকোনো মূল্যে এই উত্তেজনা থামাতে মরিয়া, কারণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় ইতিমধ্যেই এসব দেশের জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের প্রাথমিক হামলাটি মূলত ব্যর্থ হয়েছে, কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরও দেশটির সরকারকে উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। খামেনির ছেলে ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তবে ইসরাইল মার্কিন সেনা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকির তোয়াক্কা না করেই ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, যদিও পেন্টাগন কর্মকর্তারা গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরানের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে নতুন হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ