প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
‘বাবা, তোমার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিলাম’— মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন রাহুল
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বাবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ার যে স্বপ্ন রাজীব গান্ধী দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের সমস্ত দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।বৃহস্পতিবার দিল্লির ‘বীর ভূমি’তে গিয়ে বাবার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তিনি একটি পুরোনো ও অপ্রকাশিত পারিবারিক ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে প্রয়াত রাজীব গান্ধীর পাশে ছোট্ট রাহুলকে দেখা যাচ্ছে। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় রাহুল লেখেন, ‘বাবার শিক্ষা, মূল্যবোধ আর স্মৃতি সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে।’রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বার্তার মধ্য দিয়ে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছেন। রাজীব গান্ধীর এই মৃত্যুবার্ষিকীতে বীর ভূমিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এ ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ দলের শীর্ষ নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। খাড়গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজীব গান্ধীর একটি বিখ্যাত বক্তব্য স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। অন্যদিকে, বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে এক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এলটিটিই (LTTE)-এর আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন রাজীব গান্ধী। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তীতে সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় কারাভোগের পর তাঁরা মুক্তি পান।মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে দেশের দায়িত্ব নেওয়া রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভারতের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়; বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রশাসনিক আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ