প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
পাইকারশূন্য সাতমাইল পশুর হাট
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়লেও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী 'সাতমাইল পশুর হাটে' এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। হাটজুড়ে ছোট-বড় হাজার হাজার গরু থাকলেও নেই প্রত্যাশিত ক্রেতা কিংবা পাইকারদের আনাগোনা। ফলে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ঈদের অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে থেকেই এই হাটে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি গরু কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার ঈদের আর মাত্র তিনটি সপ্তাহ বাকি থাকলেও হাটে বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। হাটে আসা খামারি আব্দুল মালেক ও রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পশুর খাবারের খরচ ব্যাপক বাড়লেও হাটে গরুর সঠিক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। যারাও বা আসছেন, তারা খুব কম দাম বলছেন, যা দিয়ে উৎপাদন খরচ ওঠানোই মুশকিল।ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এবার পার্শ্ববর্তী চৌগাছা পশুর হাটে পাইকারদের ভিড় বেশি হওয়ায় এবং সাতমাইল হাটে গরুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে—এমন ধারণার কারণে পাইকাররা এই হাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে খামারিদের দাবি, খামারে খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যার ব্যয় রেকর্ড পরিমাণে বাড়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা এই দাম চাইছেন। এছাড়া বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম চলায় গ্রামের মানুষ মাঠের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণেও এখনও কুরবানির বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কুরবানির জন্য প্রায় ১৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যার মধ্যে গরু ১৩ হাজার ১০০টি। বিপরীতে উপজেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১২ flag,৭২৬টি, ফলে কুরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১,১৩১টি পশু খামার রয়েছে।সাতমাইল পশুর হাটের পরিচালক প্রতিনিধি সোহেল আল মামুন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ পশুর হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠেছে। তবে এখনও ক্রেতার চাপ বাড়েনি। তাঁরা আশা করছেন, ঈদের শেষ দিকে বেচা-কেনা পুরোদমে জমবে। শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা জানান, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভ পরীক্ষা ও অসুস্থ পশুর চিকিৎসাসহ সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বা নিষিদ্ধ উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশু যাতে বাজারজাত না হতে পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ