প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রস্তাব পাস, বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ৮টি দেশ এই প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে এবং ভোটদানে বিরত ছিল ২৮টি দেশ।প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত এই প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব। যদিও এই মতামত আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় বিচারকেরা রায়ে এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে; যেমন বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের জলবায়ু আলোচনায় সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয় এবং তুরস্ক, ভারত, কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটগ্রহণের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এই প্রস্তাব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বিজ্ঞান এবং জনগণকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি।বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, এতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে এবং এ বিষয়ে মার্কিন মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না করার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল বলে জানা যায়।ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি এবং দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব ক্ষতি ও আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা এই সমস্যার জন্য সবচেয়ে কম দায়ী। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে; যার মধ্যে তুভালুর বেশিরভাগ অংশ ২১০০ সালের মধ্যে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে। বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ সংবলিত এই পাসপোর্ট বিক্রি থেকে পাওয়া মোটা অঙ্কের টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হলেও বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ