প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেছে।প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত এই প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিচারকেরা তাঁদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে ভোট দেয়। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে অবস্থান নেয় এবং কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত ও তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রস্তাব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান।এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস দাবি করেছেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে এবং উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে।ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, ক্ষতি এখন বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে বহু সম্প্রদায় খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে। যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়।দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে সমুদ্রের নিচে বিলীন হতে দেখছে। তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে নাউরু সরকার ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে এবং সেই অর্জিত টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে।২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ স্লোগানটি সামনে আনা হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা শেষ পর্যন্ত পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ