প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
কানাডা থেকে আলাদা হতে অক্টোবরে আলবার্টায় গণভোট
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও বড় ধরনের ঐক্যের পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আগামী অক্টোবর মাসে। দেশটির খনিজ তেলসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবে থাকবে, নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার বা স্বাধীনতার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে—তা নির্ধারণে আগামী ১৯ অক্টোবর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে আলবার্টা প্রাদেশিক সরকার প্রধান ড্যানিয়েল স্মিথ এই ঐতিহাসিক গণভোটের ঘোষণা দেন। তবে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ কানাডার পক্ষে এবং দেশ ভাঙার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মূলত বিগত কয়েক বছর ধরে প্রদেশটিতে বাড়তে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব এবং এক নাগরিক পিটিশনে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষরের প্রেক্ষিতেই এই গণভোটের আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার।এই গণভোটে ভোটারদের সামনে সাধারণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—এমন কোনো সহজ প্রশ্ন রাখা হচ্ছে না। ব্যালটে ভোটারদের দুটি বিকল্প বা বক্স দেওয়া হবে, যার প্রথম বিকল্পে থাকবে কানাডার সাথে থেকে যাওয়ার পক্ষ। আর দ্বিতীয় বিকল্পটি হবে কানাডার সংবিধান অনুযায়ী আলবার্টার বিচ্ছিন্ন বা স্বাধীন হওয়ার জন্য একটি চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে। ‘আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট’ নামক একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মূল অভিযোগ, কানাডার কেন্দ্রীয় লিবারেল পার্টির দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও অর্থনৈতিক নীতির কারণে তেলসমৃদ্ধ এই প্রদেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা ফেডারেল সরকারকে যে পরিমাণ রাজস্ব দেয়, সেই তুলনায় অনেক কম সুবিধা পায়।স্বাধীনতাকামীদের সবার লক্ষ্য এক না হলেও, আন্দোলনের অন্যতম নেতা জেফরি রাথের দাবি, আলবার্টার সংস্কৃতির সাথে কানাডার চেয়ে আমেরিকার বেশি মিল রয়েছে। এই উদ্দেশ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে ওয়াশিংটনে একাধিক গোপন বৈঠকও করেছেন। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে আলবার্টার একটি আদালত আদিবাসী ‘ফার্স্ট নেশনস’ সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনা না করার কারণে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী পিটিশনটি বাতিল করে দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করেছে এবং অন্তর্বর্তী সময়ে এই বিতর্ককে ঝুলিয়ে না রেখে জনগণের মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাকে আদিবাসী নেতারা ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।এদিকে বিচ্ছিন্নতাবিরোধী ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ নামক আরেকটি পাল্টা পিটিশনে প্রায় ৪ লাখ আলবার্টাবাসী স্বাক্ষর করেছেন, যা স্বাধীনতার পক্ষের পিটিশনের চেয়েও বেশি। গণভোটের এই ঘোষণার পর আগামী পাঁচ মাস পক্ষে-বিপক্ষে জোর প্রচারণা চলবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলবার্টাকে কানাডার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পোইলিভরেও দেশের ঐক্যের পক্ষে প্রচার চালাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যালটের প্রশ্নটি সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা।সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, আলবার্টার অধিকাংশ মানুষই কানাডার সাথে থাকার পক্ষে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিতে পারেন। ফলে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সম্ভাবনা কম থাকলেও, আগামী অক্টোবরের এই ভোট কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ