প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
মমতার ফেসবুক লাইভে নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় ২০ দিন পর সরাসরি মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার প্রচলিত রাজনৈতিক মঞ্চ বা সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রধান মাধ্যম হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে। দীর্ঘ এক ফেসবুক লাইভে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে কথা না বলে যেকোনো বক্তব্য তিনি ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন।গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি আবারও সরকার গঠন করায় জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার বিকেলে আচমকা ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিরোধের বার্তা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, নির্বাচনে তৃণমূলের ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে পুরো পরিস্থিতি বদলে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রমাণ প্রকাশ না করলেও তার এই ইভিএম ও ভোটযন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাবির বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।ফেসবুক লাইভে মমতা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক মন্তব্য করে বলেন, এটি প্রকৃত নির্বাচন ছিল কিনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এছাড়া নির্বাচনের পর বিজেপির বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দলের দুই হাজারের বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বহু হকার ও ছোট ব্যবসায়ীর জীবিকা নষ্ট করা হয়েছে।বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয় তুলে ধরে মমতা আজান বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও কারও ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয় এবং সবার জন্য একই নিয়ম হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের একটি আন্তর্জাতিক প্রশংসাপ্রাপ্ত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের স্মৃতিচিহ্ন নষ্টের নীতির নিন্দা জানান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন নতুন ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শহুরে মধ্যবিত্তের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অন্যতম বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ