প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ফ্রান্সে বৈধ অভিবাসনে ৩ বছরের বিরতির প্রস্তাব
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ফ্রান্সে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বৈধ অভিবাসন সাময়িকভাবে তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ। এই প্রস্তাবের কারণে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।ফরাসি সাপ্তাহিক জার্নাল দু দিমঁশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারমানাঁ জানান, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চাপের মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সাময়িক বিরতির প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তীতে ল্য প্যারিজিয়েন ও আরটিএল ফ্রান্সসহ একাধিক ফরাসি গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কাজের ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবার নিয়ে ফ্রান্সে আসার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।প্যারিসের লা শাপেলে বসবাসরত বাংলাদেশি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার স্ত্রীর পারিবারিক পুনর্মিলনের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নতুন এই প্রস্তাবের খবরের পর তাদের পরিবারে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। সেন-দেনিতে বসবাসরত আবদুল কাদের এবং লিয়নে বসবাসরত নাজমুল ইসলামও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগে থেকেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ধীরগতির ছিল এবং অনেক বাংলাদেশি পরিবার আনার প্রস্তুতি নিলেও এখন সবাই বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই ভিসা ও আবাসন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং সেই সাথে আবাসন নবায়ন, কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগার অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করায় বৈধ কাগজধারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে এই মুহূর্তে এটি কোনো আইন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব মাত্র যা বাস্তবায়নের জন্য ফরাসি পার্লামেন্টে আলোচনা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এ বিষয়ে আলোচনা এগোলেও ২০২৬ সালের আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদিও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুটি ফ্রান্সের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ