প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাজলা ক্রিকেট কার্নিভাল সম্পন্ন
মোঃ সাদ আব্দুল্লাহ, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি ||
বৃষ্টি, কাদা আর মাঠের চারপাশে জমে থাকা পানিকে উপেক্ষা করেই জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী “Bazla School Cricket Carnival”- এর ৬ষ্ঠ আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ, দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর সিনিয়র-জুনিয়রদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মুখর ছিল পুরো আয়োজন।বড়দের জনপ্রিয় আসর “আরবিপিএল” আয়োজনের পাশাপাশি বাজলা স্কুল শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েও প্রতিবছর আয়োজন করে ব্যতিক্রমধর্মী “ক্রিকেট কার্নিভাল”। সময়ের সঙ্গে যা পরিণত হয়েছে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায়।এবারের আয়োজনটি সম্পন্ন করার দায়িত্বে ছিল বাজলা ২০২২ ব্যাচ। টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ মোস্তাকিম বিল্লাহ, জিসান আহমেদ সাদিক, ফাহিম ফয়সাল রাফি, আশফাক শাহরিয়ার অনুজ ও মেহেরুল হাসান মুহিত।টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় “Bazla Eternals 24” ও “Bazla Blaze 20”। টানটান উত্তেজনার ম্যাচ শেষে নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা জিতে নেয় “Bazla Eternals 24” দল।চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মোঃ নওশাদ নাদিব ট্রফি জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, শুরু থেকেই এই কার্নিভালকে ঘিরে তাঁদের স্বপ্ন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি জিততে পেরে তাঁর অনেক ভালো লাগছে। সিনিয়র ভাইদের বিপক্ষে খেলাটা চ্যালেঞ্জিং হলেও পুরো টিম অসাধারণ খেলেছে এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় মনিরুল ইসলাম প্রিতম ২০ ব্যাচের বড় ভাইদের খেলার প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা সত্যিই অনেক ভালো খেলেছেন এবং ট্রফির যোগ্য দাবিদারও ছিলেন। ক্রিকেট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত একটি খেলা এবং আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত তাঁরা একটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে বিদায়ী ২০ ব্যাচের অধিনায়ক বলেন, জুনিয়র হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ সিনিয়র দল হিসেবে এটিই ছিল তাঁদের শেষ কার্নিভাল। হার-জিতের বাইরে এই টুর্নামেন্ট তাঁদের অনেক স্মৃতি দিয়েছে এবং ছোটরা যেভাবে আয়োজন ও ক্রিকেট চালিয়ে নিচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা আশাবাদী।২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আরবিপিএল বড়দের আসর হলেও তাঁদের জন্য এই ক্রিকেট কার্নিভালই ছিল সবচেয়ে আবেগের জায়গা। ফলাফল যাই হোক না কেন, বাজলার ক্রিকেট ঐতিহ্য তাঁরা সবসময় ধরে রাখবেন বলে জানান।ফাইনাল খেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। তিনি জয়পুরহাটে তরুণদের এমন সুস্থ ও সৃজনশীল আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, খেলাধুলা নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীরা যেভাবে নিজেদের উদ্যোগে এত সুন্দর আয়োজন করেছে, তা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়।বাজলা ক্রিকেট কার্নিভালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাফি নাঈব মন এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো পুরোনোরা সরে গেলেও নতুনরা নেতৃত্ব দিয়ে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা এখন শুধু ক্রিকেট নয় বরং বাজলার ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সৈয়দ মোস্তাকিম বিল্লাহ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মাঠ, পিচ, ক্রিয়েটিভ টিম কিংবা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাই এই সফলতার অংশীদার বলে উল্লেখ করেন। সেই সাথে বাজলা স্কুল ক্রিকেট কার্নিভাল ভবিষ্যতেও চলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।বৃষ্টিস্নাত মাঠ ও কাদামাখা উইকেটের মধ্যেও ক্রিকেট উন্মাদনা থামেনি। সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা আর প্রাণবন্ত দর্শক উপস্থিতিতে আবারও প্রমাণিত হলো “Bazla School Cricket Carnival” শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বাজলার ঐতিহ্য, আবেগ ও ভ্রাতৃত্বের আরেক নাম।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ