প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
যুদ্ধের নতুন সমীকরণে রহস্যময় চরিত্রে পরিণত হলেন আহমাদিনেজাদ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে চরম ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনায় আহমাদিনেজাদকে ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বিবেচনা করেছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে যুদ্ধের শুরুতে গৃহবন্দিত্ব থেকে তাঁকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো এক হামলায় তিনি আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ অজানা থাকায় এই পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়েছে।এই খবরটি মার্কিন ও ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে, কারণ হলোকাস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ইসরাইলকে ‘ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দেওয়া একজন নেতাকে কীভাবে পশ্চিমারা বিকল্প ভাবল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ইসরাইলি কর্মকর্তা অবশ্য অতীতেও মনে করতেন যে, আহমাদিনেজাদের এমন চরমপন্থী বক্তব্য আসলে বিশ্বকে ইরানের পারমাণবিক হুমকির বিষয়ে সতর্ক করতে ইসরাইলের পক্ষেই ‘উপকারী প্রতিপক্ষ’ হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাঁকে ‘ইসরাইলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও প্রভাবশালী আইআরজিসির সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে একাধিক নির্বাচনে তাঁকে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইংরেজিতে টুইট করে বা মার্কিন পপ সংস্কৃতির উদৃতি দিয়ে নিজের একটি তুলনামূলক সংযত ও পশ্চিমা-বান্ধব ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চালান। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পরিচিতি, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং খামেনির ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিক সমন্বয়ের কারণেই হয়তো তাঁকে শাসনব্যবস্থার ভেতরে বিভাজন তৈরির অস্থায়ী চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।তবে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ম্যাক্স আব্রাহামসসহ একাধিক মার্কিন ও ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এই প্রতিবেদনকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ ও ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, আইআরজিসি কখনোই আহমাদিনেজাদকে সমর্থন করবে না এবং ইরানের ৯ কোটির বেশি জনগণের দেশে তাঁর কোনো বাস্তব ক্ষমতার ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, এটি মার্কিন, ইসরাইলি ও ইরানি সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ