প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
মেঘনা নদীতে পর্যটকদের ওপর লঞ্চ স্টাফদের হামলা, আহত ৫
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ওপর লঞ্চ স্টাফদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার আলেকজান্ডার মেঘনা নদীর তীর সংলগ্ন এলাকায় এই হামলায় অন্তত ৫ জন পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বুদ্ধিনগর এলাকা থেকে একদল দর্শনার্থী রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনার তীরে ঘুরতে এসে ‘জাফর’ নামের এক ব্যক্তির ভাড়ায় চালিত লঞ্চে উঠে নদীর মাঝখানে ঘুরতে যান।অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় লঞ্চের মালিক ও স্টাফ জাফর নিয়মবহির্ভূতভাবে লঞ্চের নিচতলা এবং দোতলা কানায় কানায় পূর্ণ করে অতিরিক্ত পর্যটক তোলেন। যাত্রী বোঝাই লঞ্চটি মেঘনা নদীর মাঝখানে যাওয়ার পর হঠাৎ কোস্টগার্ডের অভিযান চালানোর খবর আসে। এ সময় লঞ্চের স্টাফ জাফর কোস্টগার্ডের শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে দোতলার যাত্রীদের দ্রুত নিচতলায় নেমে আসার নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে লঞ্চ স্টাফদের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে জাফর ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।লঞ্চ স্টাফদের এই এলোপাতাড়ি মারধরে ৫ জন পর্যটক আহত হন। আহতরা হলেন— রেদওয়ান হোসেন ইমরান, রুবেল, ফাহিম, সাকিব ও মঞ্জুর হোসেন। অভিযুক্ত জাফর রামগতি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষাগ্রাম এলাকার বাসার মাঝির ছেলে বলে জানা গেছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাফর জানান, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, ভাড়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে মাত্র।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এর আগের দিন শুক্রবারও তীব্র ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক নারী ও শিশু পর্যটক নিয়ে মেঘনা নদীর মাঝখানে চরগজারিয়ায় আটকা পড়েছিল এই লঞ্চটি। পরে গভীর রাতে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে রামগতির মেঘনা নদীর তীরে জাফর ও তার সিন্ডিকেট চক্রের বেপরোয়া বাণিজ্যের কাছে পর্যটকরা চরমভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ঝামেলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বসে সমাধান করার কথা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ