প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
অভিষেক ব্যানার্জিকে ঘিরে উত্তাল ভারত, মমতাকে ফোন রাহুলের
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার শিকার হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলার ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে দূরত্ব বজায় রাখা কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে ঐক্যের আবহ তৈরি করেছে।ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি গণতন্ত্র ও জনগণের রায়ের ওপরও আঘাত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও সহিংসতার কারণ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কে সি বেণুগোপাল এই ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। শুধু কংগ্রেস নয়, বিরোধী জোটের অন্য শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও একযোগে এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, বিরোধী কণ্ঠকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা দেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ বার্তা নয়।রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব, শিবসেনার আদিত্য ঠাকরে এবং শরদ পওয়ার ঘনিষ্ঠ নেতা রোহিত পওয়ারসহ একাধিক বিরোধী নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। রাজ্যসভার সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছেন। বামপন্থী নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখছেন।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো বিজেপিবিরোধী অবস্থানকে আরও জোরালো করার সুযোগ পেয়েছে, যা আগামী দিনের জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ