প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি ধূমপানের ঝুঁকির সমতুল্য
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি ধূমপানের ঝুঁকির সমতুল্য বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা। অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলায় তারা সরকারের প্রতি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) ব্রিটেনের চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল রয়্যাল কলেজেস শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে সরকারের অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ প্রক্রিয়ায় একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।সংগঠনটি বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চিকিৎসা পেশাজীবীদের একমত করেছে। তাদের মতে, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ধূমপানবিরোধী প্রচার কিংবা গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহারের গুরুত্বের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া ১৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জানিয়েছেন যে তারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি এমন স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঘটনা দেখেন, যা প্রযুক্তি বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি চিকিৎসক সপ্তাহে একাধিকবার এমন ঘটনার মুখোমুখি হন।চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্ষতির ধরনের মধ্যে রয়েছে অনলাইনে দেখা সহিংস বা অশ্লীল কনটেন্ট অনুকরণ করতে গিয়ে শারীরিক আঘাত পাওয়া এবং সহিংস ভিডিও বা ছবি দেখে মানসিক আঘাত ও ট্রমার শিকার হওয়া। এদিকে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে ব্রিটিশ সরকার, যার মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা, নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবহার বন্ধ রাখা, অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ এবং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে—এমন নকশাগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়ে এবং বর্তমানে ইউরোপের কয়েকটি দেশও একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান অনলাইন সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে শিশুদের অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়, তবে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হোক কিংবা প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিচার ও কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমেই হোক, তারা অবশ্যই পদক্ষেপ নেবেন।এদিকে যুক্তরাজ্যের শত শত পরিবার পরীক্ষামূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা চালু করে দেখছে, এর ফলে শিশুদের ঘুম, পারিবারিক জীবন ও পড়াশোনায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং সম্প্রতি লন্ডনের একদল তরুণ রয়টার্সকে জানিয়েছে যে তারা এ ধরনের কঠোর বিধিনিষেধের বিরোধী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ