প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন-ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার আলটিমেটাম ইরানের
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের নজিরবিহীন হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সকল আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে 'বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৩০ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে ওয়াশিংটন যদি এই হামলার আনুষ্ঠানিক নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি পশ্চিমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিশোধী হামলা চালানো হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।গত শনিবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত 'ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'তে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে গত ২৩ মার্চ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক সাঈদ শেমকাদরি নিজ বাড়িতেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যতক্ষণ না তাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় বা টেক্সাস এ অ্যান্ড এম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় থাকবে।ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই বিধ্বংসী যুদ্ধ আজ এক মাস পূর্ণ করল। এই সময়ের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এবার সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা কেবল সামরিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও চরম অস্থিরতা তৈরি করছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ