প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
মার্কিন সেনাদের ‘জ্বালিয়ে দিতে’ প্রস্তুত ইরান: যুদ্ধের মুখে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন স্থল সেনাদের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পিকার গালিবাফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আমাদের সৈন্যরা মার্কিন বাহিনীকে জ্বালিয়ে দিতে ময়দানে প্রস্তুত হয়ে তাদের আসার অপেক্ষা করছে।" তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে, অন্যদিকে গোপনে ইরানে স্থল হামলার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই স্থল অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ৯ বর্গমাইলের ক্ষুদ্র কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'খার্গ দ্বীপ'। ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপটি থেকেই দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দ্বীপটি দখল করতে পারলে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য সহজ হবে না; দ্বীপটি দখলে নিতে হলে তাদের ড্রোন, কামান এবং ইরানি রকেট হামলার মুখে পড়তে হবে। এছাড়া ইরান দ্রুত ওই অঞ্চলে মাইন স্থাপন করে মার্কিন রণতরীগুলোর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে পারে।পেন্টাগনের এই পরিকল্পনায় শুধু খার্গ দ্বীপ নয়, বরং হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কাশেম দ্বীপ, লারাক এবং আবু মুসা দ্বীপও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব দ্বীপে ইরান ইতিমধ্যে প্রচুর অস্ত্র, অ্যাটাক ক্রাফট এবং ড্রোন মোতায়েন করে রেখেছে। এছাড়া গার্ডিয়ান আরও জানিয়েছে, এই স্থল অভিযানের অন্যতম একটি গোপন লক্ষ্য হতে পারে ইরানের 'নিখোঁজ' ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা। সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনাসহ রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’র উপস্থিতি এবং ইরানের অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক প্রলয়ঙ্কারী মহাযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ