প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
চীনের আগ্রাসন মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে তাইওয়ান
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধ মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে তাইওয়ান। বিপুল চীনা সামরিক শক্তির বিপরীতে কম খরচের কিন্তু কার্যকর অস্ত্র বাড়ানোর এই ‘অসমমিত প্রতিরক্ষা কৌশল’-এর আওতায় ২০২৯ সালের শুরুর দিকে দেশটির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। ইউক্রেন ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাইওয়ান ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও স্বল্প-পাল্লার অস্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছে, যেন প্রথম ধাক্কা সামলে আক্রমণকারী চীনা নৌবহর বা অবরোধকারী জাহাজে পাল্টা আঘাত হানা যায়।তাইওয়ানের এই অস্ত্রভাণ্ডারের মূল শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘হারপুন’ এবং দেশীয় প্রযুক্তির ‘হসিয়ুং ফেং-২’ ও ‘হসিয়ুং ফেং-৩’ ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে তাইওয়ানের কাছে ৪৫০টি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং ২০২০ সালের ২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে আরও ৪০০টি হারপুন যুক্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ৮৫০টি হারপুনের সঙ্গে দেশীয় ১ হাজার বা তার বেশি হসিয়ুং ফেং ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৮৫০টি; যা তাইওয়ান প্রণালিতে চীনা নৌবহরের জন্য একটি ‘কিল জোন’ তৈরি করতে পারে। অবশ্য মার্কিন সরবরাহ বিলম্বিত হলে এই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।তাইওয়ানের লক্ষ্য প্রতিটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা নয়, বরং বিশ্বে বৃহত্তম নৌবাহিনীর অধিকারী চীনের অবতরণ ও সামরিক অভিযান সফল হতে না দেওয়া। এই সামুদ্রিক আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের চেষ্টা করছে তাইওয়ান, যা নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রাখলেও, তাইওয়ান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল নিজেদের জনগণের বলেই ঘোষণা দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ