প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকটেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তারে পাকিস্তানের বিপুল ব্যয়
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের বোঝা ও তীব্র মূল্যস্ফীতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার (বছরে ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার) ব্যয় করছে। দেশটির বিদেশি প্রতিনিধিদের নিবন্ধন-সংক্রান্ত মার্কিন সরকারি নথিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।কূটনৈতিক তৎপরতা ও ব্যয়ের খাতসমূহউচ্চপর্যায়ের বৈঠক: ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য একাধিক লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করতেই মাসিক ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।অর্থনৈতিক লবিং: বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে অন্য একটি সংস্থাকে প্রতি মাসে ২.৫ লাখ ডলার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পূর্বে ২৫ হাজার ডলার মাসিক চুক্তিতে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তীতে ১২ লাখ ডলারের নতুন বড় চুক্তি দেওয়া হয়েছে।নিবিড় যোগাযোগ: মার্কিন নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মে—ভারত ও পাকিস্তানের চরম সামরিক উত্তেজনার সময়েই পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা মার্কিন আইনসভা, প্রতিরক্ষা দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৬০টি বৈঠক ও যোগাযোগ সম্পন্ন করেন।সীমান্তের সংঘাত ও মধ্যস্থতার দাবি
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ৬ ও ৭ মে রাতে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ৯টি সন্ত্রাসী স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালায়। সীমান্তে এই সামরিক অভিযান চলাকালেও ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের লবিং জোরদার ছিল। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (পরবর্তীতে ফিল্ড মার্শাল) জেনারেল আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে দাবি করেন যে, ওই উত্তেজনার সময় ভারতই যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং পাকিস্তান শান্তির স্বার্থে তাতে সম্মতি দেয়।তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নথির তথ্য এবং সমান্তরাল কূটনৈতিক তৎপরতা ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে দেশের সাধারণ মানুষ যখন চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি, তখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রভাব বিস্তারে পাকিস্তানের এই কোটি কোটি ডলারের লবিং দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও বৈদেশিক অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ