প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
গাজাবাসীকে নতুন রূপরেখায় দাসত্বের প্রস্তাবের অভিযোগ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও গণবাস্তুচ্যুতির শিকার ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক বিপর্যয় সমাধানের জন্য জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত এবং বর্তমান ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চপ্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ ১৫ দফার একটি নতুন রূপরেখা নিয়ে হাজির হয়েছেন। গাজায় স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং পুনর্গঠন ফিরিয়ে আনার রোডম্যাপ হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হলেও ওয়াশিংটনভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইদ আরিকাত এর আড়ালে এক নির্মম বাস্তবতার বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য গাজার পুনর্গঠন নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতাকে রাজনৈতিক নিপীড়নের অস্ত্র বানিয়ে গাজাবাসীকে কোণঠাসা ও বাধ্য করা।প্রস্তাবটির কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গাজার বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি ‘পুনর্গঠন’ বিষয়টি রাখা হয়েছে প্রস্তাবের ১৫ নম্বর অর্থাৎ একেবারে সর্বশেষ দফায়। তাও শর্ত সাপেক্ষে বলা হয়েছে, কোনো এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা হয়েছে এবং তা গাজার নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এসেছে বলে প্রত্যয়িত হলেই কেবল সেখানে পুনর্গঠন কাজ শুরু হতে পারবে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল বা মৌলিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অধিকার পাওয়ার আগে প্রথম ১৪টি শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নিং বডি গঠন করা।এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে যে, গাজার ধ্বংসলীলাকে অবিলম্বে সমাধানযোগ্য কোনো মানবিক বিপর্যয় হিসেবে না দেখে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থানুকূল একটি নতুন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ম্লাদেনভের এই উদ্যোগের মূল সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই রূপরেখা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে গাজার বড় অংশের ওপর ইসরাইলের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী রূপ নিতে পারে, যা মূলত চাপিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার একটি রাজনৈতিক আলটিমেটাম। তাছাড়া এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরাইলের রাজনীতি আরেকটি নির্বাচন চক্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের সমাধানের কোনো দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নয়, বরং কে কত বেশি সামরিক কঠোরতা দেখাতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে।আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্লাদেনভকে গাজাবিষয়ক এই বৃহত্তর কাঠামোর তদারকির জন্য নিযুক্ত করলেও তার কার্যকারিতা কেবল ইসরাইলের বেঁধে দেওয়া সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। গাজা প্রশাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের মাসের পর মাস নিষ্ক্রিয়তা ও যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞার কারণে পদত্যাগের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে এই উদ্যোগটি স্বাধীন মধ্যস্থতা হওয়ার চেয়ে ইসরাইলের সীমারেখার ভেতরে থেকে পরিচালিত একটি মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রকল্পে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক পুনরুদ্ধার আর বেসামরিক প্রাপ্য অধিকারকে শর্তসাপেক্ষ সুযোগ-সুবিধায় পরিণত করার একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ