প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন, থানায় মামলা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে শিমু আক্তার নামে এক গৃহবধূর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং বোতল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শিমু আক্তার বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় স্বামী আপন মিয়া, শ্বশুর ফজলু মিয়া ও শাশুড়ি আন্না বেগমকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই রাশেদ ফজল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।প্রায় দেড় বছর আগে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার গোড়াইল গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আপন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। আপন মিয়া ২০২১ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেন এবং বর্তমানে কক্সবাজারের রামুতে কর্মরত থাকলেও রংপুরের সৈয়দপুরে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন। বিয়ের তিন মাস পর থেকেই মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য শিমুর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন আপন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী শিমুর ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু হয়।ঈদের ছুটিতে ২১ মে আপন বাড়ি আসার পর গত ২৩ মে শনিবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিমুকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৯ মে শুক্রবার উপজেলার ধেরুয়া চেকপোস্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে স্ত্রী শিমুর হাতে ও আঙ্গুলে বোতল দিয়ে আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে লতিফপুর গ্রামে রাস্তার দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে শিমুকে ফেলে রেখে আপন চলে আসেন এবং ওই রাতেই শিমুকে জামুর্কী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ৩০ মে শিমু আক্তার বাদী হয়ে থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।নির্যাতিত গৃহবধূ শিমু আক্তার অভিযোগ করেছেন যে, তার স্বামীর অন্য একজনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয় সম্পর্ক আছে এবং বিয়ের পর থেকেই তাকে অনেক মারপিট করা হয়েছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। লতিফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।অন্যদিকে, অভিযুক্ত আপন মিয়া নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তার স্ত্রী শিমুর সঙ্গে অন্য এক ছেলের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এবং ডাক্তারের পরামর্শে টাইফয়েড জ্বরের কারণে শিমুর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুস্থ অবস্থায় শিমুকে তার বাবা-মায়ের কাছে দিয়ে এসেছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ