প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসায় মেডিকেল ফিজিসিস্টের অবদান
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
১৮৯৫ সালে স্যার উইলিয়াম কনরাড রন্টজেনের এক্স-রে আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া রেডিওথেরাপি আজ ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ক্যানসার রোগীদের ৫০%-এরও বেশির চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। এটি একটি দলগত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদের (ডাক্তার) পাশাপাশি মেডিকেল ফিজিসিস্টরা নেপথ্যে থেকে এর কার্যকারিতা, নির্ভুলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন।চিকিৎসায় মূল ভূমিকা ও দায়িত্ব:
রেডিয়েশন অনকোলজিস্টরা যেখানে নির্ধারণ করেন রোগীর কতটুকু রেডিয়েশন প্রয়োজন, মেডিকেল ফিজিসিস্টরা উন্নত কম্পিউটার হিসাব ও ইমেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে সেই ডোজ সঠিকভাবে নির্ধারণ ও প্রয়োগ করেন। তারা লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটরের মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পরীক্ষণ, ক্যালিব্রেশন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা গুণমান নিশ্চিতকরণের দায়িত্বে থাকেন। যেহেতু সামান্য ত্রুটিও সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি বা টিউমারে কম ডোজ পড়ার কারণ হতে পারে, তাই ইনটেনসিটি-মডুলেটেড রেডিওথেরাপি (IMRT), ভলিউমেট্রিক মডুলেটেড আর্ক থেরাপি (VMAT), এবং ইমেজ-গাইডেড রেডিওথেরাপি (IGRT)-এর মতো মিলিমিটার নির্ভুলতার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ও পেশাদারদের ঘাটতি:
বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে; ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সেই তুলনায় রেডিওথেরাপি কেন্দ্র ও দক্ষ জনবলের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ ২০২৪-এর গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬০ জন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, ৫০ জন মেডিকেল ফিজিসিস্ট এবং ১২০ জন রেডিয়েশন থেরাপিস্ট রয়েছেন। অথচ ২০৫০ সালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য এই সংখ্যা যথাক্রমে ৮৯০, ৪৯৫ এবং ১,৪৮৪ জনে উন্নীত করা প্রয়োজন, যা এক বিশাল শূন্যতা বা উদ্বেগজনক ব্যবধানকে নির্দেশ করে।বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—মেডিকেল ফিজিসিস্টদের অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রশিক্ষিত ফিজিসিস্টের স্বল্পতা এবং হাসপাতালে পুরোনো সরঞ্জামের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা। অনেক সময় ফিজিসিস্টরা স্থানীয় উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে পুরোনো বা সীমিত সুবিধাসম্পন্ন যন্ত্রপাতি সচল রাখতে ভূমিকা রাখেন।ক্যানসার চিকিৎসার এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মেডিকেল ফিজিক্স পেশাকে শক্তিশালী করা আবশ্যক। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধি, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ, মানসম্মত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু এবং ফিজিসিস্টদের জন্য ন্যায্য ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় স্থানীয় গবেষণা ও কম খরচে মান নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম তৈরি করতে পারলে সীমিত সম্পদের মধ্যেও রেডিওথেরাপি চিকিৎসাকে আরও সুলভ ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ