প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
‘শক্তিশালী ও অহংকারী বলেই যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করছে না ইরান’: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং একটি গর্বিত জাতি হওয়ায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তি করা ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।চার মাসে পদার্পণ করা এই যুদ্ধ নিরসনে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলমান থাকার মাঝেই ট্রাম্পের এমন বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং বেশ কয়েকবার এর মেয়াদ বাড়ানো হলেও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টা বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সামরিক সংঘাতের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।উল্লেখ্য, সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে ইরান বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন আকাশচুম্বী হয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও গ্যাসের মূল্য তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মার্কিনিদের ওপর তৈরি হওয়া এই অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতৃত্ব ও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার ওপর দ্রুত চুক্তি করার জন্য চাপ দেওয়া সমালোচকদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানি নেতারা মার্কিনিদের ওপর যে ক্ষতিসাধন করে আসছেন, সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই সংঘাতের সময়কালকে দীর্ঘস্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে তুলনা করেন। তিনি দাবি করেন, যেখানে ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল, সেখানে তিনি মাত্র তিন মাসের মধ্যেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছেন এবং মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানা এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এখন ইরানের কাছে মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও ইরান যে এখনও পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি, তা চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পারস্য উপসাগরজুড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে, যার আঘাত কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও লেগেছে। মূলত ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।সম্প্রতি আরেকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ‘লেবার ডে’ বা শ্রম দিবসের আগেই ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি সফল না হলে মার্কিন প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর পথ বেছে নিতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে আরও চরম সংঘাতের রূপ নিতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ